পরিস্থিতি ঘোলাটে না করে জাতীয় নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন তারেক রহমান।

পরিস্থিতি ঘোলাটে না করে জাতীয় নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন তারেক রহমান।

শনিবার রাতে এক অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রতি এই আহ্বান জানান।

তারেক বলেন, ‘‘ বিএনপিসহ দেশের রাজনৈতিক দলগুলো শুরু থেকে অন্তবর্তীকালীন সরকারের কর্মপরিকল্পনার রোডম্যাপ ঘোষণার আহ্বান জানিয়ে আসছে। সকল কিছু বিবেচনা করলে আমরা দেখতে পাই সরকার কিন্তু সেভাবে সাড়া দেয়নি। সরকার বরং জাতীয় নির্বাচনে সুনির্দিষ্ট দিন তারিখ ঘোষণাকে সুকৌশলে অল্প সংস্কার, বেশি সংস্কার এই ধরণের একটি অভিনব শর্তের বেড়াজালে বোধহয় আটকিয়ে দিয়েছে।অন্তবর্তীকালীন সরকারের চিন্তায় এবং কর্ম পরিকল্পনা সম্পর্কে দেশের জনগন অন্ধকারে থাকায় কিন্তু রাজনৈতিক অঙ্গনে হয়তবা অস্থিরতা বাড়ছে প্রায়।”

‘‘ বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে আমরা দেখছি, প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেনী মানুষ রাজপথে জড়ো হচ্ছে। মাত্র ১০ মাসের মাথায় সরকারে েভেতরে ও বাইরেও কিন্তু অস্থিরতা দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।”

তিনি বলেন, ‘‘ সরকার জনগণের আশা-আকাংখার ভাষা উপলব্ধি করতে বুঝতে ব্যর্থ হলে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তেই থাকবে।”

‘‘ আমরা মনে করি এভাবে অস্থিরতা বাড়তে থাকলে এই সরকারের পক্ষে পরিস্থিতি সামাল দেয়া কষ্টসাধ্যই হয়ে পড়বে। সেজন্য অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রতি তাদের সক্ষমতা সম্পর্কে সর্তক হওয়ার আহ্বান জানাই।”

গুলশানে লেকশোরে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট(এনডিএম) এর অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই অনুষ্ঠান হয়। এনডিএমের চেয়ার‌ম্যান ববি হাজ্জাত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন।

তারেক বলেন, ‘‘ জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরী।”
‘‘ নানারকম সমালোচনা থাকলেও গণতান্ত্রিক বিশ্বে শেষ পর্যন্ত রাজনীতিবিদরাই রাষ্ট্র পরিচালনা করেন। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জনগণের সঙ্গে থেকে রাজনীতিবিদ এবং রাজনৈতিক দলগুলো রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালনের জন্য নিজেদেরকে প্রস্তুত করে থাকেন। এটি গণতান্ত্রিক বিশ্বের নীতি।”

‘সরকার কোনো এলিট ক্লাব নয়’

তারেক বলেন, ‘‘ সরকার কিন্তু কোনো একটি এলিট ক্লাব বা করপোরেট প্রতিষ্ঠান নয়। সরকার অবশ্যই একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দেশের প্রতিটি নাগরিকের সরাসরি অংশগ্রহন নিশ্চিত থাকতে হবে।”

‘‘ গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং ব্যবস্থাকে উপেক্ষা করে বিরাজনীতিকরণকে উৎসাহিত করা হয় তাহলে হয়তবা কোনো ব্যক্তি বিশেষ লাভবান হলেও হতে পারে । কিন্তু শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্র, গণতন্ত্র এবং গণতান্ত্রিকামী জনগণই ক্ষতিগ্রস্থ হয়।”

‘বিরাজনীতিকরণ নয়, গণতন্ত্রই জরুরী’

ব্যাংকিংখাত সংস্কারে এনডিএমের দেয়া ২২ দফা সুপারিশের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘‘এনডিএমের ২২ দফার মধ্যে ৯ দফা সুপারিশ আমার দেখার সুযোগ হয়েছে। সুপারিশগুলেোকে আমার কাছে সময়োপযোগী, যৌক্তিক ও বাস্তবধর্মী মনে হয়েছে। এই প্রস্তাবনার বিষয়টি বলার মূল লক্ষ্য হচ্ছে, প্রতিটি রাজনৈতিক দল এভাবে দল ও সরকার পরিচালনায় দায়িত্ব পালনের জন্য রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ধীরে ধীরে নিজেদেরকে প্রস্তুত করে তোলে।”

‘‘ নিজ দলের আদর্শ, উদ্দেশ্যে এবং প্রস্তাবনার পক্ষে জনগনের ম্যান্ডেট নেয়। জনগনের ম্যান্ডেট পেলে রাষ্ট্র ও সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে।সুতরাং বিরাজনীতিকরণ নয় বরং দেশে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল এবং গণতান্ত্রিক বিধি-বিধান এবং রীতি-পদ্ধতি গুলোকে বরং শক্তিশালী করা অত্যন্ত জরুরী। দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা অবশ্যই জরুরী প্রয়োজন। এজন্য প্রয়োজন গণতান্ত্রিক চর্চা।”

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, পেশাজীবী, কুটনীতিক, জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধারাসহ এনডিএমের নেতা-কর্মীরা অংশ গ্রহন করেন।