সরকারের ‘টে্লিকম নেটওয়ার্ক ও লাইুসেন্সিং রিফর্ম পলিসি—২০২৫’ ‘তড়িঘড়ি করে ঘোষণা’য় বিএনপির উদ্বেগ
বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক জরুরী সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব এই নীতিমালা নিয়ে দলের আপত্তির কথা তুলে ধরেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন,‘‘বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)এর সাম্প্রতিক “ড্রাফট টেলিকম নেটওয়ার্ক ওলাইসেন্সিং রিফর্ম পলিসি ২০২৫” উদ্যোগের বিষয়টি বিএনপির দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এই উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও আমরা আমরা এই মুহুর্তে এই ধরনের একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তড়িঘড়ি করে সিদ্ধান্ত গ্রহন করার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছি।”
‘‘খসড়া নীতিমালাটি বিশ্লেষন করে দেখা যায়, এতে কিছু গুরুতর সমস্যা রয়েছে টেলিকম খাতে সমতাভিত্তিক ও টেকসই উন্নয়ন বাধা দিতে পারে। এটা ছোট ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের ক্ষতিগ্রস্থ করবে।”
মির্জা ফখরুল সরকারের প্রতি আহ্বান রেখে বলেন, ‘‘ আমরা সরকারকে আহ্বান জানাই, এই গুরুত্বপূর্ণ নীতি বাস্তবায়নের আগে তারা যেন পূর্ণাঙ্গ আর্থিক ও সামাজিক প্রভাব বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের (SME, বিশেষজ্ঞ, ভোক্তা সংগঠন) সঙ্গে অংশগ্রহণমূলক আলোচনা করার পর নীতিমালা চুড়ান্ত করেন।”
‘‘বিশেষ করে সামনে জাতীয় নির্বাচনকে বিবেচনায় রেখে এই ধরনের একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা এই সময়ে একতরফাভাবে প্রনয়ন করা সমীচীন হবে না বলে বিএনপি বিশ্বাস করে।”
বেলা আড়াইটায় বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ বোর্ডের প্রধান নির্বাহী চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন টেলিকম নীতিমালার খসড়া ঘোষণার দুই ঘন্টা আগে জরুরী সংবাদ সম্মেলন ডেকে দলের আপত্তির কথা জানান বিএনপি মহাসচিব।
খসড়া নীতিমামার সম্ভাব্য সমস্যা ও চ্যালেঞ্জের দিক তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘ একাধিক সেবাখাতে মালিকানা রাখার নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে বড় মোবাইল অপারেটররা একাধিক খাতে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে। এতে প্রতিযোগিতা কমে যাবে এবং ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো পিছিয়েপড়বে।
এসএমই-আর্থিক সংকটে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ডি-রেগুলেশনের (নিয়ন্ত্রণ শিথিল) পরে এসএম, বিশেষ করে স্থানীয় আইএসপি বা ছোট টেলিকম অপারেটরদের সম্পদ ও দায়বদ্ধতা নিয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা না থাকায় তারা বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়তে পারে।”
‘‘বিদেশি মালিকানার সীমা নিয়ে অস্পষ্টতা আছে যা বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করতে পারে এবং খাতের স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করতে পারে।ক্রস-ওনারশিপের ফাঁকফোকরে বড় কোম্পানিগুলো আরও বাজার দখল করে নিতে পারে।”
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘আমরা সরকারকে আহ্বান জানাই, এসএমই, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, গ্রাহক সংগঠনসহ সব পক্ষকে নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করার পর যেন এই ধরণেরএকটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা চুড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সেই সাথে এই প্রস্তাবিত নীতিমালার একটি পূর্ণাঙ্গ আর্থিক ও সামাজিক পরিনামও বিশ্লেষণ করা হোক।বিশেষ করে এসএমই ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সম্ভাব্য ক্ষতি, কর্মসংস্থান হ্রাস এবং অর্থনীতির ওপর প্রভাব বিবেচনায় রেখে তা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
‘‘এই ধরনের জাতীয় পর্যায়ের টেলিকম নীতি প্রণয়নে অবশ্যই সতর্কতা, স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে নিতে হবে। সামনে জাতীয় নির্বাচন থাকায়, তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।”
‘বড় মোবাইল অপারেটরদের প্রতি পক্ষপাত’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘ আইএসপি লাউসেন্সে একীভূত করার ফলে বড় প্রতিষ্ঠানগুলো সুবিধা পাবে।এনএসপি লাইসেন্সের পেস্পকট্রামের ওপর নির্ভরতা বড় কোম্পানিগুলোকে এগিয়ে রাখবে। ফিক্সড টেলিকম লাইসেন্স খোলা থাকলেও সারাদেশে সেবা দিতে হবে এবং উচ্চমান বজায় রাখাতে হবে যা এসএমইদের জন্য চ্যালেঘ্জ হয়ে দাঁড়াবে।”
‘‘বড় মোবাইল কোম্পানিকে এন্টারপ্রাইজ ব্রডব্যান্ড বাজারে প্রবেশ করতে দিলে ছোট কোম্পানিগুলো প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে এবং একচেটিয়া পরিবেশ তৈরি হবে, যা দেশের সার্বিক অর্থনীতির ওপরেও বিরূপ প্রভাব ফেলবে। শুধু তাই নয়, নীতিমালায় স্পষ্টভাবে বড় কোম্পানির সুবিধা বজায় রাখা হয়েছে যা প্রতিযোগিতা নয় বরনয় আধিপত্য বাড়বে।”
‘নতুন প্রযুক্তির বিষয়ে দিকনির্দেশনা নেই’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড বা নতুন ডিজিটাল সেবা নিয়ে নীতিতে কোনো সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই, যা বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করতে পারে।”
‘বিবাদ ও অসাম্যের শঙ্কা’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘ এন্টারপ্রাইজ সার্ভিসের সীমা অস্পষ্ট। মোবাইল অপারেটরদের ফাইবার-ভিত্তিক ব্যবসা সংযোগ সেবা কোথায় সীমাবদ্ধ তা নীতিমালায় স্পষ্ট নয়। ফলে বিবাদ ও অসাম্য তৈরি হতে পারে।”
‘জনগণের নীতিমালা হওয়া উচিত’
মির্জা ফখরুল বলেন,‘‘বিএনপি বিশ্বাস করে, সবার জন্য উপকার বয়ে আনে এমন নীতিই গ্রহণযোগ্য।”
‘‘ডিজিটাল সংযুক্তির মাধ্যমে সমতা ভিত্তিক উন্নয়ন এবং জাতীয় ডিজিটাল রাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকারেই আমরা কাজ করে যাব।”
‘নীতিমালায় গ্রামীন মানুষের সুফল থাকতে হবে’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান বলেন, ‘‘ সরকারের সিদ্ধান্ত নেবার আগেই কিন্তু আমরা আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসী কাছে আমাদের মতামতটা জানাতে চাই। আমরা মর্ডান টেকনোলজির বিস্তার চাই।বিএনপি চায়, টেকনোলজি সামনের দিকে যাবে কিন্তু তার সুফলটা যেন জনগণ পায়।
‘‘ এখানে বড় মোবাইল অপারেটর তারা একটা বিরাট সুবিধা পাবে। আার যারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বড় রকমের বিনিয়োগ করতে পারবে তারা একটা সুবিধা পাবে। সুবিধার লক্ষ্য গণতান্ত্রিক সমাজের সাধারণ মানুষ যাতে সুফলটা পায় সেটা কিন্তু আমরা যতটুকু জানি প্রস্তাবিত নীতিমালায় অনুপস্থিত। আমরা এমন নীতিমালা করব যে নীতিমালার সুফল দেশের মানুষ পায়।”
তিনি বলেন, ‘‘ গ্রামীন যে আমাদের জনগোষ্ঠি সেখানে তাদের কাছে সুলভ মূল্যে ইন্টারনেট পৌঁছিয়ে দেয়া এবং তাদের কাছে এই যে টেকনোলজি … আপনারা জানেন এআই যেটা আজকে পৃথিবীতে টেউ তুলে সেই এআইয়ের সুফল যদি সাধারণ মানুষের কাছে না পৌঁছায় তাহলে তো এই টেকনোলজির আমাদের জনগণ পাবে না।”
এই নীতিমালা প্রণয়ণে সরকার কারো মতামত নেয়নি বলে মন্তব্য করেন মঈন খান।
