অনির্বাচিতরা কিভাবে সংবিধান সংশোধন করার কথা বলে
শনিবার সকালে এক অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এই প্রশ্ন তুলেন।
তিনি বলেন, ‘‘ পৃথিবীর ইতিহাসে কোথাও নাই অনির্বাচিত ব্যক্তিরা সংবিধান সংশোধন করে। এখানে সেটাই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে জনগণের সম্মতি ছাড়া পার্লামেন্টের সম্মতি ছাড়া কিভাবে সংবিধান সংশোধন করতে চায়? যে সংবিধান আমরা রক্ত দিয়ে ‘৭২ সালে প্রতিষ্ঠা করেছি সেটিকে তারা ছুড়ে ফেলে দিতে চায়।
‘‘একটি রাজনৈতিক দল যারা বিরোধিতা করেছে মুক্তিযুদ্ধে… তারা এখন বলতে চায় যে ’৭১ সালে জাতি ভুল করেছে… এটি ছিল একটি পথভ্রষ্ট জাতি। এসব কথা বলার সুযোগ কোথায় তারা পেল?”
মুক্তিযুদ্ধে রনাঙ্গনের যোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘‘অত্যন্ত দুঃখ লাগে। যুদ্ধে আহত হয়েছিলাম… তরুণ ছিলাম বয়সে। কত স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্নকে আওয়ামী লীগ বাস্তবায়ন হতে দেয় নাই।”
‘‘ পরবর্তীকালেও সাধারণ মানুষের অধিকারকে বারবার দাবিয়ে রাখা হয়েছে। যার জন্য মাত্র এক বছর আগের এই যে তাদের সন্তানেরা যে ত্যাগ-তিতীক্ষা করল সেটি তো কোন মূল্য নাই। এটার কৃতিত্ব অন্যরা হাইজ্যাক করার চেষ্টা করছে।”
তিনি বলেন, ‘‘আমি তো বললাম আমার এলাকায় কারা জীবন দিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন ছাত্র শহীদ হয় নাই। কিন্তু দেখা গেল যে সাধারণ মানুষ কিছুই না। সাধারণ মানুষ যে ভোট তে পারে না এই ১৭ বছর এটা কোন বিষয় না।”
‘‘ অদ্ভুত এক যুক্তি তারা হাজির করে। এখন ভোট দিলে বিএনপি ক্ষমতায় যাবে এবং আবার চাঁদাবাজি করবে… সুতরাং নির্বাচনের দরকার নাই। এই ৩৪টা রাজনৈতিক দল এসব কথা বলছে। কোন দেশে আমরা বসবাস করছি। ভেরি আনফরচুনেট।”
ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশ(আইইবি) ঢাকা কেন্দ্রের উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে আলোচনা ও শহীদ পরিবারকে সন্মাননা প্রদানে এই অনুষ্ঠান হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ওপর একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
স্বাধীনতার ফল জনগণ ভোগ করতে পারেনি’
হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘‘ অনেক আন্দোলন-সংগ্রাম দেখেছি, প্রত্যেকটি আন্দোলনে জীবন দিয়েছে রক্ত দিয়েছে দেশের সাধারণ মানুষ আর তারা ফল ভোগ করেছে এক শ্রেণীর কুটির রাজনীতিবিদরা। তারা বারবার জাতিকে ভুল পথে নিয়ে যেতে চায়।”
‘‘ আজকে কেন দেশের এই দুরবস্থা? কারণ দেশের নির্বাচিত সরকার নাই। আমরা ভালো হই খারাপ হই জনগণের তো। আমাদের দায়বদ্ধতা জনগণের কাছে থাকবে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসাবে।’’
‘‘ নির্বাচিত সরকার না হলে কেউ এদেশে কোন ধরনের বিনিয়োগ করবে না, নির্বাচিত সরকার না হলে এদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কখনোই ঠিক হবে না। এটা তো জনগণের রাষ্ট্র না। এখন তো অলিগার্কি, মবোক্রেসি, এরিস্টোক্রেসি এসব চলছে।”
তিনি বলেন, ‘‘আমি তো বললাম আমার এলাকায় কারা জীবন দিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন ছাত্র শহীদ হয় নাই। কিন্তু দেখা গেল যে সাধারণ মানুষ কিছুই না। সাধারণ মানুষ যে ভোট তে পারে না এই ১৭ বছর এটা কোন বিষয় না।”
‘‘ অদ্ভুত এক যুক্তি তারা হাজির করে। এখন ভোট দিলে বিএনপি ক্ষমতায় যাবে এবং আবার চাঁদাবাজি করবে… সুতরাং নির্বাচনের দরকার নাই। এই ৩৪টা রাজনৈতিক দল এসব কথা বলছে। কোন দেশে আমরা বসবাস করছি। ভেরি আনফরচুনেট।”
‘স্বাধীনতার ফল জনগণ ভোগ করতে পারেনি’
হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘‘ অনেক আন্দোলন-সংগ্রাম দেখেছি, প্রত্যেকটি আন্দোলনে জীবন দিয়েছে রক্ত দিয়েছে দেশের সাধারণ মানুষ আর তারা ফল ভোগ করেছে এক শ্রেণীর কুটির রাজনীতিবিদরা। তারা বারবার জাতিকে ভুল পথে নিয়ে যেতে চায়।”
‘‘ আজকে কেন দেশের এই দুরবস্থা? কারণ দেশের নির্বাচিত সরকার নাই। আমরা ভালো হই খারাপ হই জনগণের তো। আমাদের দায়বদ্ধতা জনগণের কাছে থাকবে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসাবে।’’
‘‘ নির্বাচিত সরকার না হলে কেউ এদেশে কোন ধরনের বিনিয়োগ করবে না, নির্বাচিত সরকার না হলে এদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কখনোই ঠিক হবে না। এটা তো জনগণের রাষ্ট্র না। এখন তো অলিগার্কি, মবোক্রেসি, এরিস্টোক্রেসি এসব চলছে।”
তিনি বলেন, ‘‘ বিদেশ থেকে ধার করে আনা আতেলরা আমাদেরকে শিখাচ্ছে কিভাবে বাংলাদেশ চলবে? এদের অনেকে জানে না ধান গাছের তক্তা হয় কি হয় না। কিন্তু আমাদেরকে লেকচার দিয়েই যাচ্ছে।”
‘‘ তাদেরকে বলি, ভাই তুমি গ্রাম দেখেছো বাংলাদেশের? এটা দেখতে কেমন। এদের অনেকে ভোট দিতেও যায় না কারণ লাইনে দাঁড়াতে হবে… তার চেয়ে ঘুমাই আরামে ঘুম দেয়… এরা এখন বাংলাদেশের রাজনীতির গতি- প্রকৃতি নিয়ন্ত্রণ করতে চায়।”
অন্তবর্তীকালীন সরকারের উদ্দেশ্যে হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘‘ এই যে এত ধরনের সংস্কার এত ধরনের কিছু তো প্রয়োজন নাই….তাদের প্রধান ডিউটি ছিল যারা এই আন্দোলনে, গণতন্ত্র সংগ্রামে যারা নিহত-শহীদ হয়েছে, যারা আহত হয়েছে যারা চক্ষু হারিয়েছে, অঙ্গ হারিয়েছে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা… এই সামান্য কাজটাই তো করতে পারেনি।
‘‘ তারা কিছুদিন পর পর হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে এসে শাহবাগের পরে অবরোধ করে। কত দুঃখের কথা, আমরা কি জাতি? কিসের সরকার? কিসের রাজনৈতিক দল? এই কয়েকটা ছেলেকে আমরা দেখতে পারি না… এদের চিকিৎসা করতে পারি না।”
আইইবির চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন তালুকদারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক, ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের আশরাফ উদ্দিন বকুল, আবদুস সোহবান প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।
