ঐকমত্য কমিশনে বিএনপির ওয়াকআউট

ঐকমত্য কমিশনে বিএনপির ওয়াকআউট

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক থেকে সাময়িক ওয়াকআউট করেছে বিএনপির প্রতিনিধি দল। সোমবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস সার্ভিস একাডেমিতে ২০তম দিনের বৈঠক শুরুর কয়েক মিনিট পরই বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ বের হয়ে যান।

রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন কমিশন বাদে অন্য চারটি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে আলোচনা হলে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে না। গত ২২ জুলাই জানিয়ে দিয়েছিল বিএনপি।

সাংবাদিকদের তিনি জানান, আজ সরকারি কর্ম কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এবং ন্যায়পাল বিধান সম্পর্কিত আলোচনা করায় মূলত এ ওয়াকআউট। 

তিনি জানান, ওয়াকআউট করলেও দিনের অধিবেশনে যেকোনও সময় যোগ দিতে পারেন তারা।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আলোচনার জন্য এসব বিষয় উপস্থাপন করেন কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ। এসময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, তারা আলোচনায় অংশ নেবেন না।

পরে আলী রীয়াজ বলেন, “বিএনপির পক্ষে বলা হয়েছে, তারা আলোচনায় অনুপস্থিত থাকবে। একটি রাজনৈতিক দল আলোচনায় অংশ না নিলে আলোচনা করা যাবে কি না- তা নিয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পারি না।”

তখন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, “একটি বড় দল আলোচনায় অংশ না নিলে ঐকমত্য পৌঁছানো সম্ভব না। আলোচনায় অগ্রসর হওয়া সম্ভব না।”

পরে সঞ্চালক মনির হায়দার বলেন, “এর আগে এক বা একাধিক দল নোট অব ডিসেন্ট দিয়েও ঐকমত্য হয়েছিল।”

বাইরে এসে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনায় আমরা ওয়াকআউট করেছি। সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারি কর্মকমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এবং ন্যায়পাল নিয়োগের বিধান আলোচনায় আমরা অংশ নেব না বলেছি।”

পরে ১২টার দিকে আলোচনায় আবার যোগ দেওয়ার সময় তিনি বলেন, “এইসব ইস্যুতে আমরা আলোচনায় অংশ নেব না- সেটা বলেছি। কিন্তু আলোচনায় আবার যোগ দিয়ে আমরা বিস্তারিত তুলে ধরব।”

এ বিষয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে গঠনের ব্যাপারে আমরা একমত হয়েছি। এরপরও সাংবিধানিক ও আইন দ্বারা পরিচালিত পদগুলোতে নিয়োগ নিয়ে ভিন্ন ভাবনার প্রয়োজন নেই।

এতে নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা সীমিত হবে এবং তা রাষ্ট্র পরিচালনায় জটিলতা সৃষ্টি করবে বলে উল্লেখ করেন বিএনপির অন্যতম জ্যেষ্ঠ এই নেতা।

তবে এসব অগ্রগতির মধ্যেও নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, নির্বাহী বিভাগের জবাবদিহি যেমন সংসদের কাছে, তেমনি জনগণের কাছেও রয়েছে। কিন্তু যদি কর্তৃত্ব না থাকে, কেবল দায়িত্ব আর জবাবদিহি থাকে, তাহলে তা কার্যকর রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য যথেষ্ট নয়।

সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানসমূহের নিয়োগে নির্বাহী বিভাগের হাত-পা বাঁধা হলে তা ভবিষ্যতের জন্য বাধা সৃষ্টি করতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জনগণের প্রত্যাশা পূরণে নির্বাহী বিভাগকে শক্তিশালী হতে হবে, দুর্বল নয়, বলে মন্তব্য করেন সালাহউদ্দিন।

বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা সংলাপে অংশ নিচ্ছে একটি গঠনমূলক লক্ষ্য নিয়ে, তবে যেখানে মৌলিক দ্বিমত রয়েছে, সেখানে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকা বা মতপার্থক্য প্রকাশ করাও গণতন্ত্রের ভাষা।

তিনি বলেন, সব বিষয়ে ঐকমত্য হবে এমন দাবি কেউ করেনি। দ্বিমত থাকবে, ভিন্নমত থাকবে, আর সেগুলোর মধ্য দিয়েই তো গণতন্ত্রের সংগ্রাম এগিয়ে যায়। আমরা মনে করি না যে ‘নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে কাউকে ঐকমত্যে বাধ্য করা উচিত। ঐকমত্যের অর্থই হচ্ছে সকলকে সঙ্গে নিয়ে পথচলা। বিএনপি অংশ না নিলে কীভাবে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হবে, সেটি নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়।

বক্তব্য শেষে সালাহউদ্দীন আহমেদ জানান, সংলাপের পরবর্তী পর্যায়ে বিএনপি অংশ নেবে এবং ইতিবাচক আলোচনার জন্য প্রস্তুত থাকবে।