গণ অভ্যুত্থানের সরকারের উচিত রাষ্ট্রীয় ভাবে ফারাক্কা দিবস পালন করা – রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন

গণ অভ্যুত্থানের সরকারের উচিত রাষ্ট্রীয় ভাবে ফারাক্কা দিবস পালন করা – রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন হয়। সেখানে বক্তারা দশ মাসেও আন্তর্জাতিক নদীর পানির আইনে স্বাক্ষর না করায়, এবং সরকারি ভাবে ফারাক্কা দিবস পালন না করায় অন্তর্বর্তী সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন।  

আলোচনা সভায় দলের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ূম বলেন ভাটির অঞ্চলের দেশ হিসেবে বাংলাদেশের উচিত ছিল সবার আগে আন্তর্জাতিক নদীর পানির আইনে স্বাক্ষর করা। আমরা অনেক বছর ধরে এ নিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম করছি, সরকারগুলোকে আহ্বান করছি, যুক্তি তর্ক তুলে ধরেছি। এমনকি যখন দেশে গণঅভ্যুত্থানের সরকার ক্ষমতায়, যার কয়েকজন উপদেষ্টা বিভিন্ন সময় আমাদের সাথে এই আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন, এখন তারাও এই বিষয়ে কার্যত নিরব, নিরুদ্যোগ।

আমরা মনে করি, দলীয় সরকারগুলোর কাছে আমরা প্রমাণিত ভাবে যা পাবার সম্ভাবনা কম, সেই আন্তর্জাতিক নদীর পানির আইনে এখনো স্বাক্ষর না করে সরকার নিজেদের সাথে, দেশের জনগনের সাথে প্রতারণা করছেন।

হাসনাত কাইয়ূম আরো বলেন, সরকারের আরো উচিত একটা কমিশন করে আন্তর্জাতিক নদীর পানি না পাবার কারণে বাংলাদেশের প্রান, প্রকৃতির, কৃষির, পরিবেশের যত ক্ষতি হয়েছে, হচ্ছে; তার একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করা।

বাংলাদেশ যেসকল বিষয়ে বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে পারে, তার একটি হলো পানির অধিকার। তথ্য, প্রমাণ সংগ্রহ করে, ফারাক্কা দিবস পালনের মাধ্যমে জনমত তৈরির মাধ্যমে সরকারকে এই বিষয়ে কার্যকরী উদ্যোগ নেবার আহ্বান জানান তিনি। 

হাওর অঞ্চলবাসীর প্রধান সমন্বয়ক ড. হালিম দাদ খান বলেন, ফারাক্কা বাঁধ ভারত সরকারগুলোর বাংলাদেশের এবং ভারতের একটি বড় অংশের জনগণের সাথে প্রতারণা ও অপরাধ।

যৌথ নদী কমিশন মূলত ভারতের অনাগ্রহে কার্যকর হয় নাই, হবার সম্ভাবনাও নাই। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে সিন্ধু নদীর চুক্তি নিয়ে ভারতের অবস্থান, তিস্তা চুক্তি নিয়ে ভারত সরকারগুলোর বাংলাদেশের জনগণের সাথে ক্রমাগত প্রতারণা – সব মিলিয়ে গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা ভারত আমাদের বাধ্য না হলে দিবে না।

২০২৬ সালে শেষ হতে যাওয়া গঙ্গা চুক্তিতে কোন গ্যারান্টি ক্লজ নাই। সে কারণে বাংলাদেশ কখনো তার ন্যায্য হিস্যা পায় নাই। আন্তর্জাতিক নদীর পানির আইনে স্বাক্ষরের পাশাপাশি সকল নদীর পানি নিয়ে, গ্যারান্টি ক্লজ সহকারে ভারতের সাথে একটি চুক্তি হলে ভালো হবে বলে মতামত দেন এই বিশেষজ্ঞ।

সভায় আরো বক্তব্য দেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সমন্বয়ক সোহেল শিকদার, জাতীয় সমন্বয় কমিটির সদস্য শেখ নাসিরউদ্দীন, ঢাকা দক্ষিন মহানগর কমিটির দপ্তর সমন্বয়ক সারোয়ার আলম প্রমূখ। 

সভার সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জেলা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক লিটন কবিরাজ, সঞ্চালনা করেন নির্বাহী কমিটির দপ্তর সমন্বয়ক নাইমুল ইসলাম নয়ন।