ইশরাক হোসেনকে মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে নগর ভবনের সামনে ৩য় দিনের কর্মসূচি

ইশরাক হোসেনকে মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে নগর ভবনের সামনে ৩য় দিনের কর্মসূচি

ইশরাক হোসেনকে মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে নগর ভবনের সামনে ৩য় দিনের মতো কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন ‘ঢাকাবাসী’। এ লক্ষ্যে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নগর ভবনের সামনে এসে জড়ো হচ্ছেন নগরবাসী।

শনিবার (১৭ মে) সকাল ৯ টা থেকে নগর ভবনের সামনে আসতে শুরু করে নগরের ভোটাররা। নগর ভবনের সামনেই অবস্থান নেন তারা। সেখান থেকে ইশরাক হোসেনকে অবিলম্বে মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে নানাবিধ শ্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় ‘অবিলম্বে ইশরাক হোসেনকে মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে দাও, দিতে হবে, বিল্লাল মাস্টাররে (আসিফের বাবা) টাকা দিলে, এলজিইডির কাজ মেলে, আসিফ ভূইয়ার কালো হাত, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও, শপথ নিয়ে টালবাহানা চলবে না চলবে না-সহ প্রভৃতি শ্লোগানে প্রকম্পিত হতে থাকে নগর ভবনের সামনের এলাকা। 

একই সাথে তৃতীয় দিনের মতো অবরুদ্ধ আছে নগর ভবন। সব ধরনের কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে আছে। 

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ২য় দিনের অবস্থান কর্মসূচি থেকে সচিবালয় অভিমুখের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সচিবালয়ের উদ্দেশ্যে বিক্ষোভ মিছিল রওনা হওয়ার আগে নগর ভবনের সামনে এসে জড়ো হতে থাকে হাজার হাজার নগরবাসী। সচিবালয় অভিমুখে নগরবাসীর এই কর্মসূচি উপলক্ষে সকাল থেকে পুলিশও সতর্কাবস্থায় রয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ২য় দিনের মতো একই দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন নগরের বাসিন্দারা। সেদিন নগরভনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান কর্মসূচি চলে। সেই কর্মসূচিতে নগরবাসীর সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

নগরভবনের সামনে অবস্থানকারী বিক্ষোভকারীরা বলেছেন, এখন পর্যন্ত ইশরাকের শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাই তারা ইশরাককে মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার দাবিতে গতকাল বিক্ষোভ করেছেন।

শান্তিপূর্ণ এই অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে নগরের বাসিন্দারা বলছেন, আদালতের রায় ও নির্বাচন কমিশনের গেজেট অনুযায়ী ইশরাক হোসেন বৈধ মেয়র। এরপরও কেন তাকে এখনো শপথ করানো হয়নি, তার ব্যাখ্যা চাচ্ছেন তারা। তাদের দাবি, একটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, মশামুক্ত এবং দুর্নীতিমুক্ত ঢাকা গড়তে ইশরাকের মতো জনবান্ধব মেয়র প্রয়োজন।

তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যতদিন ইশরাক হোসেনকে শপথ করানো না হবে, ততদিন তারা নগর ভবনের সামনে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি দেবেন।

এদিকে, ঢাকাবাসীর এই অবস্থান কর্মসুচিতে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সাধারণ কর্মচারীরাও। সকাল থেকেই তারা সব কার্যক্রম বন্ধ করে তারাও অবস্থান নেন সেই অবস্থান কর্মসূচিতে। সব গেট বন্ধ করে দেয় তারা। প্রত্যেক গেটেই তালা ঝুলিয়ে দিয়ে নগর ভবনের নীচ তলায় স্টেজ করে অবস্থান কর্মসূচি চালাতে থাকেন তারা। সেই কর্মসূচিতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক এবং সচেতন নাগরিক সমাজের নেতাকর্মীরা।

উল্লেখ্য, গত ২৭ মার্চ ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ঘোষণা করে রায় দেন নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল। ঈদের পর ১৬ এপ্রিল পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করে ১০ দিনে মধ্যে গেজেট প্রকাশের জন্য নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেন আদালত। ২২ এপ্রিল ইশরাক হোসেনকে মেয়র হিসেবে গেজেট প্রকাশ করা নিয়ে আইনগত কোন জটিলতা আছে কিনা সেই মতামত চেয়ে আইন মন্ত্রনালয়ে চিঠি পাঠায় নির্বাচন কমিশন। তবে  আইন মন্ত্রনালয়ের মতামতের অপেক্ষায় থেকে নির্ধারিত ১০ দিনের ঠিক শেষ দিন ২৭ এপ্রিল রাত ৯ টায় আইন মন্ত্রনালয়ের মৌখিক অনুমতি নিয়ে গেজেট প্রকাশ করে ইসি। পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য ২৮ এপ্রিল সেই গেজেট স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পাঠায় ইসি। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে আবারো আপিলের জন্য পাঠানো হয় নির্বাচন কমিশনে। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন আপিল করবে না জানিয়ে দেন। তারও প্রায় এক সপ্তাহ পেড়িয়ে গেলেও শপথের ব্যবস্থা করছেন না স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।